মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে যায় কেন
ফুলে যাওয়া ব্যাটারি।

এখন আপনি জানতে চলেছেন- মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে যায় কেন, ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার কারণ, মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে গেলে করণীয়, মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় এবং মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার নিয়ম। তাছাড়াও আপনি জানিতে পারবেন মোবাইলের ব্যাটারি কে দীর্ঘস্থায়ী বা দীর্ঘদিন ব্যাবহার করার নিয়ম।

মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে যায় কেন
মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে যায় কেন

স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘ব্যাটারি ফুলে যাওয়া’, মোবাইল ব্লার্স্ট হওয়া বা ফেটে যাওয়া! অনেকের আবার মোবাইল কিনার কিছুদিন পরেই ব্যাটারি ফুলে যায় এবং মোবাইল বার্স্ট হয়ে যায়।

মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে যায় কেন

আমরা মোবাইলে কী ধরনের ব্যাটারি ব্যাবহার করি তাও জানা দরকার। স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয় লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। এই ধরনের ব্যাটারিগুলো অনেক উন্নতমানের হয়ে থাকে, তবুও কিছুদিন যাওয়ার পর ব্যাটারিগুলো ফুলে যায়।

মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে যায় কেন

আজকে আপনি জানতে চলেছেন মোবাইলের ব্যাটারি কেন ফুলে যায়, ফুলে গেলে এর করণীয় কি এবং ব্যাটারি ফুলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে করণীয় কী…………

মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে গেলে কি করতে হবে

মোবাইল ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়াঃ

ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার জন্য প্রথম কারন হলো মোবাইল গরম হয়ে যাওয়া। আপনি লক্ষ্য করবেন যে মোবাইল ফোন গরম হয়ে গেলে তারাতাড়ি চার্জ চলে যায়। এর কারন হলো – মোবাইল গরম হলে ব্যাটারি রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার বৃদ্ধি পায় ফলে ব্যাটারি উপর খাবারের অভাব পরে যায়।

**প্রতিকার:  এই কারন থেকে মুক্তি পেতে হলে,,,, গরন হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন অপ করে কিছুকন রাখতে হবে। ঠান্ডা না হওয়া পযন্ত কোন ধরনের কাজ করা উচিত নয়।

2. অতিরিক্ত চার্জ দেওয়া:

অতিরিক্ত চার্জ দেওয়ার কারনে ব্যাটারি ফুলে যায়া,,এটি একটি বড় সমস্যা।  অতিরিক্ত  চার্জের ফলে ব্যাটারি ফুলে যায় তারাতাড়ি। অনেকে মোবাইল চার্জ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ফলে মোবাইলের চার্জ পূর্ণ হওয়া সত্বে চার্জার থেকে খোলা হয় না এবং ব্যাটারি ফুলে যায় বা ফুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

**প্রতিকার:  মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ সর্বনিম্ন ১৫% এবং সর্বোচ্চ ৮০% এর কম বা বেশি চার্জ রাখা অথবা করা উচিত নয়।

মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে যায় কেন

3. বার বার হাত থেকে ফোন পড়ে যাওয়া:

বার বার হাত থেকে ফোন পড়ে গেলে ব্যাটারির অনেক সমস্যা হয়ে তাকে।  যেমন  : ব্যাটারি ফিজিক্যাল কিছু ড্যামেজ হয়ে যায় এবং এর ফলে শর্ট সার্কিট তৈরী হয়, ওভার হিটিং ইত্যাদি হয়ে থাকে।

**প্রতিকার:  মোবাইল ফোন ব্যাবহার করলে খুব সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে বারবার ফোন হাত থেকে পড়ে না যায়।

4. ডুপ্লিকেট চার্জার ব্যবহার: মোবাইলের অর্জিনাল চার্জার নষ্ট হয়ে গেলে বাজারের চার্জার ব্যাবহার করা উচিত নয়। এতে মোবাইলের ব্যাটারির ক্ষতি হয়ে থাকে। বাজারের চার্জার সাধারনত ডুপ্লিকেট কোম্পানির হয়ে থাকে। ঐ চার্জারগুলো ব্যাটারির চার্জ গ্রহণ মাত্রার  উচ্চমানের বা খুব নিম্নমানের চার্জ প্রদান করে থাকে, ফলে উপযুক্ত পরিমাণে চার্জ প্রদান না করার কারনে ব্যাটারির ক্ষতি হয় এবং ব্যাটারি ফুলে যেতে পারে।

**প্রতিকার:  মোবাইলের ভার্সন এবং ব্যাটারির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চার্জার কিনতে হবে। বাজারের আজেবাজে দোকান থেকে চার্জার না কিনে শো-রুম অথবা ব্যাটারির অরিজিনাল দোকান থেকে চার্জার কিনে ব্যবহার করতে হবে। এতে আপনার মোবাইল ও ব্যাটারি দুটোই ভালো থাকবে।

5. অতিরিক্ত গেম খেলা: অতিরিক্ত গেম খেলার কারণে মোবাইলের উপত বাড়তি চাপ পড়ে এবং মোবাইল ও ব্যাটারি দুটোই অনক গরম হয়ে উঠে। মোবাইলের ব্যাটারিকে ৪৫° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার উপরে রাখা ক্ষতিকর। মোবাইলে গেম খেললে মোবাইলের তাপমাত্রা ৪৫° সেন্টিগ্রেড এর উপরে চলে যায় এবং ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায় বা ফুলে যায়।

**প্রতিকার :-  অতিরিক্ত গেম খেলা যাবে না, সবচেয়ে ভালো হয় গেম না খেললেই। আমরা সবাই সাধারণত সাধারণ মোবাইল বা একটু কম দামের মোবাইল ব্যবহার করে থাকি। এসব মোবাইল গেম খেলার উপযুক্ত নয়। তাই মোবাইলে গেমের এপ থাকলে তা আনইন্সটল করে ফেলাই সবচেয়ে ভালো হবে।

মোবাইলের ব্যাটারি ফুলে যায় কেন

6. চার্জে লাগিয়ে কথা বলা: আমরা অনেকে মোবাইল চার্জে লাগিয়ে ফোনে কথা বলি। এতে কতে ব্যাটারির মধ্যে উল্টো-পাল্টা শুরু হয়ে যায়। এসময় ব্যাটারি চার্জার থেকে চার্জ গ্রহণ করে, আর এদিকে আপনি ফোনে কথা বললে ব্যাটারিকে আবার ফোনের জন্য চার্জ প্রদান করতে হয়৷ ফলে ব্যাটারিকে একসাথে দুটি কাজ করতে হয় এবং এর ফলে ব্যাটারি কোনো কাজই সঠিকভাবে করতে পারে না। যার ফলে ব্যাটারি ফুলে যেতে পারে। মাঝেমধ্যে ব্যাটারি বার্স্ট হওয়ার ঘটনাও শুনা যায়।

**প্রতিকার:- মোবাইল চার্জে লাগিয়ে ফোনা কথা বলা যাবে না। মোবাইল ও ব্যাটারিকে কিছুক্ষণের জন্য রেস্ট দিন। চার্জ হওয়ার পর আবার আপনি সঠিকভাবে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন।

7. মোবাইলকে রোদে রাখা: এক গবেষণায় দেখা গেছে যে মোবাইলকে ফোদে বেশ কিছুক্ষণ ফেকে রাখলে ব্যাটারি ফুলে যায় এবং মোবাইল এর স্ক্রিন ফেটে যায়।

**প্রতিকার:-   আমাদের রোদে কাজ করার সময় বা মাঠে কাজ-কর্ম বা খেলা-ধুলা করার সময় মোবাইল না নেওয়ায় ভালো, নিলে ব্যাগে অথবা রোদ বিহীন স্থানে রাখতে হবে। এতে মোবাইল ও ব্যাটারি দুটোই সুস্থ থাকবে।

8. ব্যাটারির মান: নিম্ন মানের ব্যাটারি ব্যবহার করা, যে ব্যাটারির এনোড এবং ক্যাথোড দূর্বল এবং সঠিক মাপের হয় না। এছাড়াও এসব ব্যাটারির লিথিয়াম আয়নের মানও একদম ভালো হয় না। ফলে ব্যাটারি ফুলে যেতে পারে।

**প্রতিকার:-   নিম্ন মানের ব্যাটারি না ব্যবহার করা যাবে না, কম দামি ব্যাটারি কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। দাম একটু বেশি হলেও এতে বিপদ একেবারেই কম থাকে।

9. অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার: আমরা অনেকেই ওয়াই-ফাই এর অভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে থাকি। যার ফলে মোবাইলের নেটওয়ার্ক আইসি-গুলোকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, আর সেগুলো অনেক গরম হয়ে যায়। আমরা যারা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করি, এটা আমাদের সকলেরই জানা। যার  ফলে মোবাইলকে ব্যাটারির অনেক চার্জ প্রদান করতে হয়। যার কারনে ব্যাটারি ফুলে যেতে পারে।

**প্রতিকার:-    অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে না, মোবাইলকে সময়মত বিশ্রাম দিতে হবে।

10. তৈরির সময়ে কিছু ক্ষ ব্যাটারি তৈরির সময় সব উপাদান যদি সঠিক ভাবে না পড়ে বা লিথিয়ার আয়ন ব্যাটারিতে সঠিক ভাবে না দেওয়া ও পরিক্ষা না করলে তাহলে মোবাইল ফুলে ও বাস্ট হতে পারে।

**প্রতিকার:- এতে মোবাইল ব্যবহারকারীদের কোন কিছু করার নেই বা হাত নেই।

তাছাড়াও অনেকের মোবাইলে আবার যান্ত্রিক ত্রুটি থাকতে পারে। যেমন- এমনিতেই মোবাইল গরম হয়ে যাওয়া, শর্ট সার্কিট হয়ে যাওয়া, ডিভাইস আইসি ও নেটওয়ার্ক আইসি দূর্বল থাকা, মোবাইল বেশ পুরনো হওয়া ইত্যাদির কারনেও মোবাইলের ব্যাটারি গরম হয়ে যায়।

★★★ উপরিউক্ত নিয়ম-কানুন গুলো মেনে চললে অবশ্যই আপনার মোবাইলের ব্যাটারির কোনো ক্ষতি হবে না বা ফুলে যাবে না এবং আপনার ব্যাটারিও হলে দীর্ঘস্থায়ী!★★★

Similar Posts

4 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *